
লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দেশের নেতৃত্ব দেয়ার কোনো ম্যান্ডেট বা গণরায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। লন্ডনে আয়োজিত সিপ্যাক জিবি সম্মেলনে ফারাজ এই দাবি করেন এবং অবিলম্বে বৃটেনে একটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, রিফর্ম ইউকে যদি ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী এক দশকের মধ্যে বৃটেন তৃতীয় বিশ্বের দেশে পরিণত হতে পারে।
ফারাজ উল্লেখ করেন যে, বার্নহ্যাম দেশের রাজনীতিতে গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের কথা বললেও, মেকারফিল্ডের প্রায় ২৫ হাজার ভোটার ছাড়া এই পরিবর্তনের জন্য তার কোনো সরাসরি গণরায় নেই। গত ২০ জুলাই বার্নহ্যাম বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও, ফারাজের মতে, তার নেতৃত্বে দেশের অবস্থার কোনো উন্নতি হবে না। তিনি দাবি করেন, বার্নহ্যামের সরকার আগের নীতিরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং বরং আরও বামপন্থী অবস্থান গ্রহণ করবে।
করনীতি নিয়ে সমালোচনা করে ফারাজ বলেন, বার্নহ্যাম আয়কর, জাতীয় বীমা ও ভ্যাট না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কর বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে সম্পত্তি কর বাড়ানো হলে লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের আবাসন বাজার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া সর্বোচ্চ করহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান। অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে ফারাজ বলেন, বার্নহ্যাম অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি এবং তার পক্ষে বৃটেনকে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ (ইসিএইচআর) থেকে বের করে সীমান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে ফারাজ বলেন, রিফর্ম ইউকে আগামী নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, গত বছর তার দল অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের তুলনায় বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। ফারাজ আরও বলেন, বৃটিশ জনগণ দুর্বল, সাহসহীন ও সিদ্ধান্তহীন নেতৃত্বে ক্লান্ত এবং তিনি মনে করেন সামনে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অঘটন ঘটতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :