Facebook Twitter Instagram YouTube

রাজনীতি ও সংস্কৃতি থেকে কুরুচিপূর্ণ চর্চা দূর করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৪, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ /
রাজনীতি ও সংস্কৃতি থেকে কুরুচিপূর্ণ চর্চা দূর করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে '৬ষ্ঠ আবৃত্তি উৎসব ২০২৬' উদযাপিত হয়েছে। দিনব্যাপী এই উৎসবে আন্তঃবিভাগ নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, গুণীজন সম্মাননা প্রদান, পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি থেকে কুরুচিপূর্ণ এবং অশালীন চর্চা দূর করে একটি পরিশীলিত পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোর নানা সংকটের কারণে রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার জাতি, ধর্ম ও গোষ্ঠী-নির্বিশেষে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সংস্কৃতি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা বজায় রাখা এবং অশালীন ভাষাচর্চা পরিহার করা প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জাতি গঠন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভূমিকা রাখছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তুলবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন আবৃত্তি শিক্ষাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান। অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়তে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জবি আবৃত্তি সংসদের ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা কামরুল ইসলাম জুয়েল এবং সংগঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন ফরিদ।

অনুষ্ঠানে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদারকে 'কবি সম্মাননা জবিয়ান পদক' এবং আবৃত্তিশিল্পী মুন্সী মো. রেজাউল হোসেইন টিটোকে 'আবৃত্তিশিল্পী সম্মাননা জবিয়ান পদক' প্রদান করা হয়। এছাড়া আন্তঃবিভাগ নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় এইচ এম ফাহিম এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় খিজির ফাইয়াজ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জবি আবৃত্তি সংসদের সভাপতি আবিদুল হক রাহাত এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মারুফা আক্তার লিজা। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত বক্তব্য রাখেন। উৎসব শেষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার স্মারক ফলকের সামনে সম্মাননা পদক প্রদর্শন করেন এবং অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য ছবি তোলেন।

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২: ২০আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২: ২২

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh