Facebook Twitter Instagram YouTube

বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলছে বিশ্ব গণমাধ্যম


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৬, ২০২৬, ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ /
বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলছে বিশ্ব গণমাধ্যম

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং আগামী দিনের পথচলা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সাময়িকী এ নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পূর্ববর্তী শেষ ৭২ ঘণ্টার পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়টিও তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের বিশ্লেষণে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিতে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশে ফেরার বার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার বিষয়টি ঢাকা ও নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যunal-এর নির্দেশনার পর শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর বাংলাদেশ সরকারের নজরদারি এবং ৫ আগস্ট ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তার ভার্চুয়াল অডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুও এই কূটনৈতিক অস্বস্তির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। তারা শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তার অডিও বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের বিবরণ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক সাময়িকী দি ডিপ্লোম্যাট তাদের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে। সাময়িকীটি মনে করে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্যই একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ এক নিবন্ধে সাময়িকীটি আরও উল্লেখ করেছে যে, একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করলেও বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin