
ভোলার লালমোহন উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে আমন ধান আবাদে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তবে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বর্তমানে জমিতে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
লালমোহন উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ২৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী ও স্বর্ণাসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ধান ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে, স্থানীয় জাতের রোপা আমন ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে এবং নতুন হাইব্রিড-৪ জাতের ধান ২০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি জমিতেও দ্রুত চারা রোপণ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় অনেকগুলো কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আবাদে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, মৌসুমের শুরুতেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়ায় অতিবৃষ্টিতে কিছু চারা নষ্ট হলেও কৃষকদের বড় কোনো চারা সংকটে পড়তে হয়নি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের ব্যস্ততার চিত্র দেখা গেছে। চরভূতা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ এলাকার কৃষক মো. বেলাল জানান, এবার তিনি প্রায় ১৮৮ শতাংশ জমিতে আমন চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং কিছু জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছেন। অতিবৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকায় তার আবাদে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। প্রথম দফার বীজতলা নষ্ট হওয়ায় তাকে নতুন করে চারা তৈরি করতে হয়েছে। ধানের চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমিতে রোপণ শেষ করা পর্যন্ত তার প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান তিনি।
একইভাবে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ান্দের বালিরটেক এলাকার কৃষক মো. আবু তাহের এবার ৩৬০ শতাংশ জমিতে আমন আবাদ করছেন। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। বীজতলায় চারা উৎপাদন ও জমি প্রস্তুত করতে এ পর্যন্ত তার প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ভালো ফলন পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :