Facebook Twitter Instagram YouTube

সিরাজগঞ্জে খাঁচায় মাছ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মৎস্যচাষিরা


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ /
সিরাজগঞ্জে খাঁচায় মাছ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মৎস্যচাষিরা

সিরাজগঞ্জের নদী তীরবর্তী এলাকায় খাঁচায় মাছ চাষ করে অনেক চাষি এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, চৌহালি ও সদর উপজেলার ফুলজোড়, বড়াল ও যমুনা নদীতে বর্তমানে ১০৫ জন চাষি ১ হাজার ৫৮৮টি খাঁচায় মাছ উৎপাদন করছেন। এর মধ্যে শুধু ফুলজোড় নদীতেই ৯০ জন যুবক খাঁচায় মাছ চাষ করে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। এই চাষ পদ্ধতির সঙ্গে সরাসরি চার শতাধিক পরিবার সম্পৃক্ত রয়েছে।

জেলায় খাঁচায় মাছ চাষের যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে। সেই সময় হোসেন আলী, শামছুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর ও জয়নাল নামের কয়েকজন দিনমজুর চাঁদপুরে কাজ করার সময় এই পদ্ধতির ধারণা পান এবং নিজ এলাকায় তা বাস্তবায়ন শুরু করেন। বর্তমানে ভূইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত ফুলজোড় নদীর প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছ চাষির সংখ্যা পাঁচ বছরের ব্যবধানে ৩০ থেকে বেড়ে ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। বাৎসরিক মাছের উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টন।

চাষিরা জানান, ১৫ ফুট প্রস্থ ও ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। ড্রাম, নেট ও বাঁশ জাল দিয়ে এই খাঁচাগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। তেলাপিয়া মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ পিস পোনা ছাড়া হয়। মাছের ওজন ১ কেজি করতে প্রায় পৌনে দুই কেজি ভাসমান ফিড ও ওষুধ ব্যবহার করতে হয়, যার খরচ প্রায় ১৭৫ টাকা। তবে শীতকাল তেলাপিয়া চাষের জন্য বেশ উপযোগী বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন মৎস্যচাষিরা। পুরস্কারপ্রাপ্ত চাষি আতাউর রহমান জানান, চৈত্র থেকে বৈশাখ মাস চাষের উপযুক্ত সময় হলেও উজানের কেমিক্যাল মিশ্রিত পানির কারণে মাছ মরে গিয়ে তারা মাঝে মধ্যে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

সিরাজগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রায়গঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় মৎস্য অফিসের মাধ্যমে চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশিষ ঘোষ আরও জানান, তারা নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা, পোনা সংগ্রহের উৎস এবং রোগাক্রান্ত মাছের চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এই শিল্প আরও প্রসারিত হবে বলে তারা আশা করছেন।

৫ বছর আগে যেখানে ৩০ জন চাষি ছিল আজ সেখানে ৯০ জন মৎস্যচাষির ১২০০ খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে।

রায়গঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ফুলজোড় নদীতে ১ হাজার ২০০ খাঁচায় (তেলাপিয়া) মাছ চাষ করে দেশীয় মাছ উৎপাদনে চাষিরা একটি বড় ভূমিকা রাখছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh