
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে হত্যার পর তার লাশ আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে সুরাইয়া আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ওই নারীও নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় গ্রামপুলিশ এমাদুল ইসলাম ও ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাদের খোকন জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে সুরাইয়া বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ঝালমুড়ি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফারজানা নামের ওই ছাত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার পর হাত-পা বেঁধে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়।
কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার পুতুল জানান, বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে সুরাইয়া আক্তারকে শিশু ফারজানাকে স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়দের জানানো হয়। দুপুরে শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়।
শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সুরাইয়া আক্তারকে আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। উত্তেজিত জনতা এ সময় তার বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কালিগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :