Facebook Twitter Instagram YouTube

করিম খানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি: এএসপি প্রেসিডেন্ট


প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ /
করিম খানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি: এএসপি প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদারকি সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিসের (এএসপি) সভাপতি পাইভি কাউকোরান্টা জানিয়েছেন, আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। গত ১৭ জুলাই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ফিনল্যান্ডের এই কূটনীতিক জানান, এএসপির ২১ সদস্যের নির্বাহী ব্যুরো প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় করিম খানের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগে অসদাচরণের কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

২০২৪ সালের নভেম্বরে করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব জাতিসংঘের অফিস অব ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেসের (ওআইওএস) কাছে হস্তান্তর করেছিলেন কাউকোরান্টা। এই তদন্তে করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের একটি অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওআইওএস তাদের তদন্তে চারটি অভিযোগ পর্যালোচনা করে, যার মধ্যে একটি ছিল করিম খানের কার্যালয়ের এক নারী কর্মকর্তার করা অবাঞ্ছিত যৌন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং বাকি তিনটি ছিল তার কার্যালয়ের সদস্যদের করা প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ।

এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তকারীরা সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও মূল্যায়ন শেষে ১৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন এবং প্রায় ৫ হাজার পৃষ্ঠার প্রমাণাদি ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর এএসপির নিয়োগ দেওয়া বিচারকদের একটি প্যানেলের কাছে জমা দেয়। বিচারকদের প্যানেল তিন মাস নথি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে জানায় যে, উপস্থাপিত তথ্য প্রাসঙ্গিক আইনি কাঠামোর অধীনে কোনো অসদাচরণ বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করে না। তবে পরবর্তীতে এএসপি ব্যুরোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিচারকদের মতামত উপেক্ষা করার পক্ষে ভোট দেন। এ ঘটনার পর করিম খান ও অভিযোগকারীদের অতিরিক্ত বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ার পর ব্যুরো তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এএসপির কাছে পাঠায়।

কাউকোরান্টা তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ৮ জুনের সিদ্ধান্তে ব্যুরো স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে সাক্ষী ডব্লিউ০৬ ও ডব্লিউ১০-এর করা প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগে তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, কৌঁসুলি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আইনি অধিকার ভোগ করেন এবং এ অভিযোগের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর ফলে প্রতিশোধমূলক আচরণের বিষয়টি এএসপির কাছে পাঠানো হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট দুই সাক্ষীকেও তদন্ত কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, করিম খানকে ঘিরে তদন্ত পরিচালনায় এএসপি ব্যুরোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। সাবেক ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল অভিযোগ করেছেন, বিচারকদের সিদ্ধান্তকে সম্মান না জানিয়ে করিম খানকে অপসারণের জন্য এএসপি একটি রাজনৈতিক ভোট আয়োজন করেছে। বোরেলের দাবি, ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল ও হামাসের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার পর থেকে আইসিসির বিরুদ্ধে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, বর্তমান ঘটনাও তারই অংশ। আগামী শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য এএসপির বৈঠকে করিম খানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

এতে পুরো প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।পরবর্তীতে করিম খান ও অভিযোগকারীদের অতিরিক্ত বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ার পর ব্যুরো তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এএসপির কাছে পাঠায়।আগামী শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য এএসপির বৈঠকের আগে সদস্যভুক্ত ১২৫টি দেশের কাছে ওআইওএসের প্রতিবেদন, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথির সম্পাদিত কপি বিতরণ করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin