Facebook Twitter Instagram YouTube

সংসদীয় কার্যক্রমে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ টিআইবির


প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ /
সংসদীয় কার্যক্রমে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ টিআইবির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কার্যপ্রণালি বিধি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সংসদের জবাবদিহি ও কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

টিআইবির অভিযোগ, সংসদীয় কার্যপ্রণালির ৭৭ বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের পর তা স্থায়ী বা বাছাই কমিটিতে পাঠানো কিংবা জনমত যাচাইয়ের সুযোগ থাকলেও 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬'-এর ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। বিরোধী দলের জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও আমলে নেওয়া হয়নি, এমনকি সংশোধনী প্রস্তাবের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এছাড়া বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে অনুলিপি সরবরাহের রীতি থাকলেও, এই বিলের ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে উত্থাপনের ঠিক আগমুহূর্তে, যা সংসদ সদস্যদের পর্যালোচনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, 'বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬' এবং 'পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬' কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে উত্থাপন করা হয়েছে। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে দ্রুত বিল পাসের এই প্রবণতা সংসদকে কর্তৃত্ববাদী আমলের সাথে তুলনা করার সুযোগ তৈরি করেছে বলে ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টিও উঠে এসেছে টিআইবির বিবৃতিতে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একজন বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করার সমালোচনা করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্য হয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি করা সম্ভব নয়, যা কমিটির মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে। নব্বই-পরবর্তী সংসদে এমন নজির নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দিয়ে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারি হিসাব কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। আসনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বাড়াতে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo