
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) প্রস্তাবিত ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’-এর নির্মাণকাজ দুই বছরেও শুরু করা সম্ভব হয়নি। যদিও প্রকল্পটির প্রাথমিক নকশা ও পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে, তবুও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’ ও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৮তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে চত্বরটির নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’ রাখা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নামকরণের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের কর্মকাণ্ড কেবল নামফলক পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রকল্পের ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এবং অর্থসংকটের কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া না গেলে আগের ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’-এর ভিত্তি ব্যবহার করেই ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’ নির্মাণের বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, জুলাই স্কয়ারটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং তিনি নিজে তা পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও টাইলস মেরামতের কাজ চলছে। উপাচার্য আরও জানান, মূল অবকাঠামোতে এখনো হাত দেওয়া না হলেও কয়েকটি নকশা আহ্বান করা হয়েছে এবং স্থাপত্য নকশাও পাওয়া গেছে, যা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনেও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী ইয়াসির নাজিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রতীক। শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে এই স্কয়ারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। তিনি দ্রুত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও মর্যাদাপূর্ণ স্কয়ার নির্মাণের দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে এই প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :