Facebook Twitter Instagram YouTube

এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যে নতুন সংকট


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ /
এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যে নতুন সংকট

এল নিনো আবহাওয়াজনিত তীব্র খরার কবলে পড়েছে পানামা খাল। প্রকৃতির এই চক্রের প্রভাবে খালের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত চার দশকের মধ্যে এবারের এল নিনো সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খরা পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এই খাল দিয়ে পরিচালিত হয়। পানির স্তর কমে যাওয়ায় খাল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা গত মাসের ৩৬টি থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ৩২টিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পানামা খাল কর্তৃপক্ষের প্রধান ইলিয়া এসপিনো দে মারোত্তা জানিয়েছেন, খরা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ নাগাদ এই সংখ্যা আরও কমিয়ে ২৯টি বা তার কাছাকাছি আনা হতে পারে।

পানামা খালের কার্যকারিতা মূলত বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখা দুটি জলাধারের ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত পানি না থাকলে খালের লক ব্যবস্থা ব্যবহার করে জাহাজ ওঠানামা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রতিটি জাহাজ পারাপারে প্রায় ২০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়, যা পরে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়। জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ জাহাজের সর্বোচ্চ ড্রাফট বা পানির নিচের গভীরতা ১৫ দশমিক ২ মিটার থেকে কমিয়ে ১৪ দশমিক ৬ মিটারে নির্ধারণ করেছে।

বর্তমানে পানামা খালের ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে, কারণ হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প পথ হিসেবে এই খাল বেছে নিচ্ছেন। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে পানামা খাল এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই রুট দিয়ে সম্পন্ন হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে বিধিনিষেধ বহাল থাকলে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে। তবে এসপিনো দে মারোত্তা আশাবাদী যে, ২০২৩ সালে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা যেভাবে ২২টিতে নেমে গিয়েছিল, এবার পরিস্থিতি ততটা খারাপ হবে না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin