
পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস ঠেকাতে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার কোটি টাকা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। বাজারের অস্থিরতা, নিজস্ব আর্থিক দুর্বলতা এবং অতীতের লোকসানের কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি হুট করে পুরো টাকা বাজারে ঢালেনি। এর পরিবর্তে, ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাছাই করা 'এ' ক্যাটাগরির শেয়ারে ধাপে ধাপে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগকে পাঠানো এক চিঠিতে আইসিবি নিশ্চিত করেছে যে, ঋণের পুরো অর্থই শেষ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মাধ্যমে এর নিরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাজার পরিস্থিতির ঝুঁকি ও অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে পুরো অর্থ বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তবে সময়সীমা বাড়ানোর পর অবশিষ্ট অর্থও বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের অন্যতম বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে আইসিবি শেয়ার কেনাবেচার পাশাপাশি পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনা এবং মার্জিন ঋণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সেকেন্ডারি মার্কেটে আইসিবির অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাজার পড়ে গেলে তাদের পোর্টফোলিওতে বড় ধরনের কাগুজে লোকসান তৈরির ঝুঁকিও থাকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিবি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত আরও ৫৮৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। বর্তমানে তাদের সঞ্চিত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে ৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, যার ২ হাজার কোটি টাকা পুরোনো উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের দেওয়া নতুন ১ হাজার কোটি টাকা আইসিবি এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে এখনই বিপুল শেয়ার বিক্রি করে বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি করতে না হয়।
আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ জানান, বর্তমান কৌশল হলো ঝুঁকি কমিয়ে কেবল ভালো আর্থিক ভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা। তিনি বলেন, বাজার স্থিতিশীল করতে কেবল সাময়িক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং টেকসই সংস্কার প্রয়োজন। তার মতে, আইসিবির ভূমিকা এখন কেবল শেয়ার কিনে বাজার ঠেকানো নয়, বরং ঝুঁকি বুঝে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজারে আস্থা ও তারল্য বজায় রাখা।
এদিকে পুঁজিবাজারে সক্রিয় বিভিন্ন কারসাজিচক্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিএসইসি ও ডিএসইর তদন্তে দেখা গেছে, কোনো কোনো চক্র কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে শেয়ারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এমন চক্র সক্রিয় থাকলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল পাওয়া কঠিন। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, পুঁজিবাজারের সংকট কেবল তারল্যের নয়, বরং কাঠামোগত। তিনি নিম্নমানের আইপিও, আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম এবং সেকেন্ডারি মার্কেটে কারসাজির মতো সমস্যাগুলোর ওপর জোর দিয়েছেন। আগস্টে ডিএসইএক্স সূচক ৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে নেমেছিল এবং সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও তা এখনো অস্থির। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাজারের কাঠামোগত সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী নজরদারি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেটিই হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আইসিবি রেকর্ড প্রায় ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা নিট লোকসান করে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত আরও প্রায় ৫৮৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এতে সঞ্চিত লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। আইসিবির আর্থিক সংকট কাটাতে এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপর
বাজার এখনো নাজুক : আগস্টে ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে নেমেছিল। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাজার এখনো অস্থির। ৩ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা; সপ্তাহ শেষে সূচক দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে। তাই ১ হাজার কোটি টাকা বা আইসিবির নিজস্ব আরও কিছু বিনিয়োগ-কোনোটিই
আপনার মতামত লিখুন :