
গ্রাহকদের জন্য সেবা আরও সহজলভ্য ও গ্রাহকবান্ধব করতে মোবাইল ফোনে কথা বলার সর্বনিম্ন সীমা বা 'ফ্লোর প্রাইস' কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বর্তমানে মোবাইল কলে প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ দুই টাকা ফ্লোর প্রাইস নির্ধারিত রয়েছে। এই সর্বনিম্ন কলরেট কমিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিটিআরসি আয়োজিত এক অনলাইন গণশুনানিতে জামালপুরের এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রাহকদের সুবিধার কথা ভেবে কমিশন সর্বনিম্ন কলরেট আরও কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
গণশুনানিতে টেলিকম সেবার মান এবং গ্রাহক অসন্তোষের বিভিন্ন চিত্র উঠে আসে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১১ মাসে সেবা সংক্রান্ত মোট ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫১টি অভিযোগ হেল্পলাইনের মাধ্যমে এবং ৭ হাজার ৯৫৮টি অভিযোগ ওয়েববক্সের মাধ্যমে এসেছে। প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮৬.৭০ শতাংশ বা ১১ হাজার ২৭৯টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এই নিষ্পত্তি হারে কমিশন পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, গ্রাহকদের শতভাগ অভিযোগ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কমিশন।
এবারের গণশুনানিতে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে মূলত ডাটার মেয়াদ, ডাটা ক্যারি ফরওয়ার্ড, কল ট্যারিফ, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, সিম ও মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন (এনইআইআর) এবং সামগ্রিক সেবার মান নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ও অভিযোগ উত্থাপিত হয়। গত ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত এই অনলাইন শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য মোট ২ হাজার ৯৯০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জন বিভিন্ন পেশাজীবী, ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জন নারী গ্রাহক ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিটিআরসির প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মো. মেহেদী উল সহিদ, স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক ও লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডুসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :