Facebook Twitter Instagram YouTube

আনচেলত্তিকে বরখাস্তের দাবি জানালেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও


প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ / ০ Views
আনচেলত্তিকে বরখাস্তের দাবি জানালেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও

নরওয়ের কাছে হেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের নকআউট পর্বের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও ইতালিয়ান এই কোচকে অবিলম্বে ছাঁটাইয়ের জোরালো দাবি তুলেছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি আনচেলত্তির দল পরিচালনা ও কৌশল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আনচেলত্তির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল মহলে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে নেইমারকে কেন শুরু থেকে খেলানো হয়নি কিংবা পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব কেন ব্রুনো গিমারাইসকে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। যদিও ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি পরিসংখ্যান দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ব্রাজিলের সাবেকরা।

রোমারিও বিশেষ করে ম্যাচের মাঝপথে খেলোয়াড় পরিবর্তনের কৌশলের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মাঠের এই ছক তার বোধগম্য নয়। গিমারাইসকে তুলে নিয়ে রাইটব্যাকে এদেরসনকে খেলানোর সিদ্ধান্তকে তিনি অযৌক্তিক বলে মনে করেন। রোমারিওর মতে, স্কোয়াডে বিকল্প ফুলব্যাক না থাকা এবং সেই জায়গায় একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে নামিয়ে দেওয়া বড় ধরনের ভুল ছিল।

ব্রাজিলের এই লজ্জাজনক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না রোমারিও। তিনি বলেন, এই মহাবিপর্যয়ের পর আনচেলত্তির কোনোভাবেই দলের প্রধান কোচ হিসেবে থাকা উচিত নয়। সিবিএফ সভাপতি হলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতেন জানিয়ে রোমারিও বলেন, আমি হলে আজই তার চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলতাম। লকার রুমে গিয়ে সরাসরি তাকে বিদায় জানিয়ে দিতাম।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অতীত কোচদের ইতিহাস টেনে রোমারিও বর্তমান পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, দুঙ্গা বা তিতের মতো কোচদের বিদায়ের ইতিহাসের বিপরীতে বর্তমান কোচ আনচেলত্তিকে নিয়ে এই স্থায়িত্বের বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন। ২-১ গোলের এই হারে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্নভঙ্গের পাশাপাশি আনচেলত্তির ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কিংবদন্তিদের এই তীব্র ক্ষোভের মুখে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কী সিদ্ধান্ত নেয়।