
খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা পারস্পরিক জাত বিনিময়ের মাধ্যমে ১৭টি স্থানীয় জাতের দেশি কলা সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের গত তিন বছরের মাঠপর্যায়ের গবেষণায় পবা, তানোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ১৪টি গ্রামের ৯০১টি পরিবারে এই জাত বিনিময়ের তথ্য পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পবার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের নদীকান্দা গ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। বারসিক ও গ্রিনকোয়ালিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম গবেষণার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
গবেষণায় উঠে আসা ১৭টি স্থানীয় জাতের মধ্যে রয়েছে চিনি চম্পা, বিচি, মানিক, জীন, সবরি, আনাচি, জেড, কাঠালী, আনাজি, মনোহর, সাগর, আচিন, লাল কলা বা অগ্নিশ্বর, অনুপম, এঁটে ও মদনা। এর মধ্যে আনাজি, আনাচি, বিচি, মানিক, সবরি ও চিনি চম্পা জাতগুলোর বিস্তার তুলনামূলক বেশি।
অনুষ্ঠানে কৃষকরা জানান, এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার ও মডেল শতবাড়ির সহযোগিতায় চারা বিনিময়ের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় জাতগুলো এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বক্তারা বলেন, দেশি কলার জাত বৈচিত্র্যের সঙ্গে স্থানীয় কৃষিজ্ঞান ও খাদ্য সংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তন ও খরাপ্রবণতার এই সময়ে স্থানীয় জাত সংরক্ষণ ভবিষ্যতের নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা কৃষকদের নেতৃত্বে জাত বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় জাতের কমিউনিটি রেজিস্টার তৈরির আহ্বান জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার অমৃত কুমার সরকার, মো. তৌহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিকসহ তিনটি উপজেলার ৬৫ জন কৃষক অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :