
নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। ১০৬তম মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বমঞ্চের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেল লা রোহা।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সাফল্যের পুরো কৃতিত্বই দিয়েছেন তার খেলোয়াড়দের। ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ মনে করেন, এই দলের মূল শক্তি কেবল প্রতিভা নয়, বরং তাদের পারস্পরিক সংহতি, আত্মত্যাগ এবং মানবিক মূল্যবোধ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আগে মানুষ অবাক হতো, ফুটবলাররা প্রতিভাবান হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে পারে এটা ভেবে। আমাদের দলটাই সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ। কারণ এখানে এমন মানুষ আছে, যারা একে অপরকে সাহায্য করে এবং মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়।”
ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অনবদ্য পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “মার্তিনেজ অসাধারণ খেলেছে। সে ম্যাচটিকে অনেক দীর্ঘ করেছে। কিন্তু আমার খেলোয়াড়রা ধৈর্য হারায়নি। আমরা বিশ্বাস রেখেছিলাম, সুযোগ আসবে, আর সেটাই হয়েছে।”
২০২৪ সালে স্পেনকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন করার পর এবার বিশ্বকাপ শিরোপা জয় দে লা ফুয়েন্তের ক্যারিয়ারের আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তার অধীনে স্পেনের অপরাজিত থাকার ধারা এখন ৩৮ ম্যাচে পৌঁছেছে, যা ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার যেকোনো জাতীয় দলের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। কোচের ভাষায়, “এই খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি, সংহতি এবং প্রতিভা অসাধারণ। তারা কঠিন কাজকেও সহজ মনে করায়। আমি এমন একটি ড্রেসিংরুম দেখি, যেখানে সবাই সুখী। আর দেখি, পুরো একটি দেশ আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।”
আপনার মতামত লিখুন :