
তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এমন কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেওয়া কার্যত অসম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে ব্রিকস সম্মেলন এবং দ্বিপক্ষীয় সফর—উভয় ক্ষেত্রেই তারেক রহমানকে দেওয়া আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে। এখন সফরের সময় নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ঢাকার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের ১৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২০০১ সালে তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রশংসিত হলেও ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কারণে তিনি চরমভাবে নিন্দিত হয়েছিলেন। সেই দাঙ্গায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। যদিও মোদি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। দাঙ্গার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাকে বর্জন করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছিল, তবে সময়ের ব্যবধানে তিনি মূল ধারার রাজনীতিতে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসেন।
মোদি তার শাসনামলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বচ্ছ ভারত গঠন এবং পররাষ্ট্রনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাথে ভারতের সম্পর্ক দৃঢ় করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনীতির শিখরে তার এই আরোহণ অনেককে বিস্মিত করলেও, তার দল বিজেপির সাথে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শক্তিশালী সম্পর্ক এবং গুজরাটে আরএসএসের প্রভাব তাকে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।
নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত জীবনও দীর্ঘকাল ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের মেহসানা জেলার ভাদনগরে জন্মগ্রহণকারী মোদি দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বড় হয়েছেন। তার বাবা দামোদারদাস মোদি ভাদনগর রেল স্টেশনে চায়ের দোকান চালাতেন এবং ছেলেবেলায় মোদিও সেখানে চা বিক্রি করতেন। গুজরাট ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ করা মোদি বরাবরই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। ১৭ বছর বয়সে পরিবারের পছন্দে যশোদাবেনকে বিয়ে করলেও, এই দম্পতি খুব কম সময়ই একসঙ্গে সংসার করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি প্রথমবার প্রকাশ্যে বিয়ের কথা স্বীকার করেছিলেন।
১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।
১৯৮০ সালে বিজেপি গুজরাটে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আরএসএসে প্রশিক্ষিত প্রচারক হিসেবে বহু বছর কাজ করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :