Facebook Twitter Instagram YouTube

আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যে ৭টি খাতের আয় বিবেচ্য


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২০, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ /
আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যে ৭টি খাতের আয় বিবেচ্য

আয়কর রিটার্ন দাখিল নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে যে কোন ধরনের আয়ের ক্ষেত্রে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। মূলত চাকরি, বাড়িভাড়া, ব্যবসা কিংবা ব্যাংকের মুনাফাসহ বিভিন্ন খাতের আয় রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। তবে কোনো খাতে আয় থাকলেই যে কর দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। রিটার্ন দাখিলের বিষয়টি করদাতার আয় এবং আইনের নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া ১ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, করদাতারা সারা বছরই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিশেষ কিছু সুবিধা পেতে পারেন।

একজন করদাতার আয় সাধারণত সাতটি নির্দিষ্ট খাতে বিভক্ত করা হয় এবং এসব খাতের আয় যথাযথ কাগজপত্রের ভিত্তিতে রিটার্নে দেখাতে হয়। খাতগুলো হলো: বেতন, ভাতা ও বোনাসসহ চাকরি থেকে পাওয়া আয়; বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়; কৃষিকাজ ও ফসল উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি আয়; ব্যবসা, পেশা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয়; সম্পদ বা বিনিয়োগ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত মূলধনি লাভ; ব্যাংকের সুদ, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও সিকিউরিটিজ থেকে আয় এবং রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, সম্মানী ও অন্যান্য ফি থেকে প্রাপ্ত আয়।

মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই সাতটি খাতের যেকোনো একটিতে আয় থাকলেই যে আয়কর দিতে হবে, তা নয়। রিটার্ন দাখিল এবং আয়কর পরিশোধ দুটি ভিন্ন বিষয়। করযোগ্য আয় না থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে। যেমন—সাধারণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে, আগের তিন বছরের কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে, ফার্মের অংশীদার হলে, কোম্পানির পরিচালক বা কর্মচারী হলে, সরকারি চাকরিজীবী হলে কিংবা আইনে উল্লেখিত অন্যান্য ক্ষেত্রে রিটার্ন দিতে হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পুরুষ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতার ক্ষেত্রে এ সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতার জন্য ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটেড যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। এছাড়া প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে বাবা-মা বা অভিভাবক নিয়মিত করমুক্ত আয়সীমার বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din