Facebook Twitter Instagram YouTube

ইরানে নবম দিনের মার্কিন হামলা, পরমাণুকেন্দ্রে আঘাত


প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ /
ইরানে নবম দিনের মার্কিন হামলা, পরমাণুকেন্দ্রে আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরানে টানা নবম রাতের মতো সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যার মধ্যে দেশটির একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রও আক্রান্ত হয়েছে। পাল্টা জবাবে তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ পরিচালনা করেছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ‘বিপর্যায়কর জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এই স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউজনেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের এই পদক্ষেপে তার কিছু আসে যায় না। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উভয় পক্ষের বিরোধ থেকেই এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্র জর্ডান উপকূল দিয়ে জাহাজ পাঠাতে চাইলেও ইরান তাতে আপত্তি জানিয়ে আসছে। গতকালও ইরানের বাহিনী হরমুজে চারটি জাহাজকে অনিরাপদ রুটে চলার অভিযোগে বাধা দেয়, যার মধ্যে দুটি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস এবং জর্ডানে মার্কিন সেনার ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক ও ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন শাদেগান শহরের কাছেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর জবাবে ইরান কুয়েতের আল আদিরি ক্যাম্প ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের একটি পানি পরিশোধনাগারে হামলা হয়েছে। এছাড়া জর্ডানেও সাইরেন বাজার খবর পাওয়া গেছে এবং দেশটি একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি সতর্ক করে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে এর জবাব আরও ভয়াবহ হবে। একই সাথে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের গবেষক রস হ্যারিসন আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প হামলা আরও জোরদার করতে পারেন, তবে সামরিক পদক্ষেপে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকা প্রয়োজন। তার মতে, এই হামলা ইরানিদের মনোবল আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে, যা ট্রাম্পের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করবে।

এদিকে যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যেই ইসরাইলি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হলে ইসরাইলও হামলা চালিয়েছিল। তবে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে তারা হামলা বন্ধ রেখেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh