
গত মাসে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। গত ২৪ জুন ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে চার হাজার আটশ’ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে ধসে পড়েছে শত শত ভবন। তবে লা গুয়াইরা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত আনারে নামের ছোট্ট একটি উপকূলীয় শহর অলৌকিকভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
প্রায় চার হাজার মানুষের বসতি আনারেতে পৌঁছানোর পথে কারাকাসের উত্তরের উপকূলজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অসংখ্য ভবনের দেখা মেলে। বাসিন্দারা ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভব করলেও পাহাড়ের ঢালে নির্মিত তাদের বাড়িঘরের কোনো ক্ষতি হয়নি। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এই শহরটিকে স্থানীয়রা আশীর্বাদপুষ্ট বলে মনে করেন। ১৮ বছর বয়সী সার্ফিং প্রশিক্ষক ও জেলে ড্যানিয়েল লোসাদা জানান, তারা আশা হারাননি এবং এই দুর্যোগও একসময় কেটে যাবে।
আনারের বাস্তব চিত্র লা গুয়াইরা শহরের পরিস্থিতির চেয়ে অনেকটাই আলাদা। সেখানে উদ্ধারকর্মী ও স্বজনরা কয়েক সপ্তাহ ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষের সন্ধান করছেন। ভূমিকম্পে সর্বস্ব হারানো হাজারো পরিবার নিকটবর্তী অস্থায়ী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে, যেখানে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থারও অভাব রয়েছে। ১৯৯৯ সালের প্রাণঘাতী ভূমিধসের সময়ের মতো এবারও আনারে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
আনারে সৈকতের কাছে একটি কিয়স্কের দেয়ালে বড় করে লেখা রয়েছে ‘স্বাগতম’। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন শত শত পর্যটক এখানে এলেও, ভূমিকম্পের পর পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়রা শঙ্কিত। ৬৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত হেনরি রোমেরো জানান, পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ায় তার অতিথিশালা ব্যবসার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে ৪০ বছর বয়সী জেলে হোসে ইজাগুইরে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তারা এই জায়গা ছেড়ে কোথাও যাবেন না। তার ভাষ্যমতে, আনারে একটি আশীর্বাদপুষ্ট জনপদ, যেখানে অনেক দুর্যোগ এলেও শহরের কোনো ক্ষতি হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :