Facebook Twitter Instagram YouTube

১৫ আগস্ট: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় অবস্থান


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৫, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ /
১৫ আগস্ট: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় অবস্থান

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হামলায় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ পরিবারের অনেক সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণি এবং তাঁর স্ত্রী আরজু মনিসহ আরও কয়েকজন ওই হামলায় নিহত হন। তবে সেই সময় শেখ মুজিবের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটিশ শাসনের পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্ব তাঁকে বাঙালির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিতে পরিণত করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘদিন ধরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল ঘোষণা করেছে এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে আগের বছরগুলোর মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি পালনের আনুষ্ঠানিকতা এবার আর নেই। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আজও অবিচ্ছেদ্য হয়ে আছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din