
দেশে হামের পাশাপাশি ডেঙ্গু সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১৬৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং দৈনিক গড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গুর নতুন ধরন ‘ডেন-৩ সেরোটাইপ’ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এএমএ মুহিত সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই সতর্ক না হলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আইইডিসিআরের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ জানান, চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ ও আগস্টের শুরুতে ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা ৭১টি নমুনার সেরোটাইপিং করা হয়েছে। প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। এর মধ্যে ৬৫টিতেই ডেন-৩ ধরন পাওয়া গেছে, যা মোট নমুনার প্রায় ৯১.৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে ডেন-২ ধরনের প্রাধান্য ছিল। আইইডিসিআর পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলে চালানো জরিপে বান্দরবান, বরগুনা ও পটুয়াখালীর রোগীদের নমুনায় ডেন-২ ও ডেন-৩ উভয় ধরনের উপস্থিতি পেয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও পানি জমিয়ে রাখার প্রবণতার কারণে এডিস মশা এখন শহর ছাড়িয়ে গ্রাম, উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। সুপারি গাছের গর্ত বা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রীতে জমে থাকা পানিতে এডিসের প্রজননক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১,৫৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৯ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৮ জন, খুলনা বিভাগে ৩৩৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১১২ জন, রংপুর বিভাগে ৫৭ জন এবং সিলেটে নয়জন রয়েছেন। বর্তমানে ১,৩০০ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গত দুই সপ্তাহে সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে রোগী বাড়ার কারণে চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এএমএ মুহিত জানিয়েছেন, সোমবার থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তিনি আরও বলেন, ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে, তাই অক্টোবরের আগেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :