
সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে চিকিৎসকের ৭৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৪ জন কর্মরত আছেন, অর্থাৎ ৫০টি পদই শূন্য পড়ে আছে। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসারের ৫০টি পদের বিপরীতে মাত্র ১২ জন দায়িত্ব পালন করছেন।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি অন্যান্য জনবলেরও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। নার্সের ২৬৩টি পদের মধ্যে ১৯৬ জন কর্মরত থাকলেও ৬৭টি পদ শূন্য। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য কর্মীর ১৩৬টি পদের মধ্যে ১০৮টি পদই শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের এই প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায়। ২০০৯ সালে হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
হাসপাতালটিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন আট থেকে নয় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে চাপ সবচেয়ে বেশি, যেখানে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় অর্ধেকই শিশু। অথচ শিশু রোগের চিকিৎসার জন্য মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালটিতে হৃদরোগ, দন্ত, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও হাড়জোড়া বিভাগের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।
শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও সিঁড়ির মুখে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ৫০ জন হলেও প্রতিদিন ২৫০ জনের বেশি শিশু ভর্তি থাকছে, যা সামলাতে নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ নার্স তানজিনা আক্তার জানান, রোগীর পাশাপাশি স্বজন ও অভিভাবকদের চাপে সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহম্মদ হোসেন জানিয়েছেন, চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সেবা প্রদানে সমস্যা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পানি সরবরাহসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের চেষ্টাও চলছে। ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।
প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৯০০ বা তারও বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন :