Facebook Twitter Instagram YouTube

সৌদি আরবে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ময়মনসিংহের তুহিনুজ্জামান


প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ /
সৌদি আরবে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ময়মনসিংহের তুহিনুজ্জামান

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের মধ্য ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তুহিনুজ্জামান (৩৪)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বপ্ন পূরণের আগেই কর্মস্থলে এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানাজায় অংশ নেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনতে গত বছরের শুরুর দিকে তুহিনুজ্জামান সৌদি আরবের হাইল শহরে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এসি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়ে যান। সেখানে গত ২০ মে ওপর থেকে এসি পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ মে তাঁর মৃত্যু হয়।

তুহিনুজ্জামান তাঁর মা–বাবা, স্ত্রী ফরিদা খাতুন, আট বছর বয়সী মেয়ে তাকিয়া খাতুন তামান্না এবং দুই বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল তাওসীফকে রেখে গেছেন। স্বামীর কফিন জড়িয়ে বিলাপ করতে করতে স্ত্রী ফরিদা খাতুন বলেন, ‘মানুষটা বলেছিল, আর কয়েক বছর কষ্ট করলেই সংসারের সব অভাব দূর হবে। সন্তানদের জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়বে। কিন্তু সে সেই কথা রাখতে পারল না। এখন আমার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, জানি না।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, তুহিনুজ্জামান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এর আগেও তিনি কয়েক বছর বিদেশে কাজ করেছিলেন, কিন্তু আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। পরে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশায় ঋণ করে আবারও সৌদি আরবে যান। কিন্তু ঋণের বোঝা কমিয়ে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আগেই অকাল মৃত্যু তাঁর জীবন কেড়ে নিল।