রমজান মাস আসতে এখনো চার মাস বাকি, কিন্তু তার আগেই রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক তখনই রমজানকেন্দ্রিক ছয়টি পণ্যের দাম নীরবে বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবছরের মতো এবারও রমজানকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা পুরোনো কৌশলে দাম বাড়াচ্ছেন।
খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১১০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশি পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকায় এবং ভালো মানের ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা চিনি কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় এবং মাবরুম খেজুর সাত দিনের ব্যবধানে ১০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারের ক্রেতা মো. আবু সালেহ জানান, প্রতি সপ্তাহে কেনাকাটা করতে এসে তিনি ছোলার দাম ১৫-২০ টাকা এবং খেজুরে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি লক্ষ্য করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী মো. আকবর আলীর মতে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের কমিশন কম এবং মিল থেকে সরবরাহ কম থাকায় খোলা সয়াবিনের চাহিদা ও দাম বেড়েছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া, তার ওপর রমজানকে ঘিরে সিন্ডিকেট চক্র আগেভাগেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারের উচিত এই দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, দেশের নিত্যপণ্যের বাজার সার্বিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি জানান, পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল এবং পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। রোজায় ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো সংকট হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বাজারের অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে; প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকা, খাসির মাংস ১৩০০ টাকা এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :