Facebook Twitter Instagram YouTube

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ /
স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা সেবার মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস পুনরায় অর্জন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

তারেক রহমান বলেন, দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ায় প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা এবং রোগীদের প্রতি সহমর্মী আচরণ অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগ করে মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়, এটি কেবল চিকিৎসকদের মানবিক এপ্রোচ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের কাজ চলছে।

বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতের পর এবার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এই হার ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট ও ভালভসহ জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

হাসপাতাল অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১০০ বেডের হাসপাতাল রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সবকটি উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ বেডের প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধুমাত্র হাসপাতাল দিয়ে সুস্থ জাতি গড়া সম্ভব নয়, বরং ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের ওপর শারীরিক সুস্থতা নির্ভর করে। তিনি মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও বিজ্ঞানসম্মত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিলন চত্বরে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ঢামেককে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও জাতীয় সংগ্রামে অবদান রাখা ‘জীবন্ত ইতিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেন।