
পশ্চিমবঙ্গে আগামী সোমবার থেকে বিতর্কিত ‘গুন্ডা দমন আইন’ কার্যকর হতে যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভায় এই ঘোষণা দেন। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অস্থিরতার অবসান ঘটবে।
গত ২৯ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল-২০২৬’ পাস হয়েছিল, যা ‘গুন্ডা দমন আইন’ হিসেবে পরিচিত। এই আইনের আওতায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধের জন্য যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত আটকে বা ডিটেনশনে রাখার বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই বিধান নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
বহরমপুরের তাকিপুর হাই মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন এই আইন কার্যকরের পর মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের নামে ট্রেন-বাস পোড়ানো, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস কিংবা পুলিশের ওপর হামলা চালানোর দিন শেষ হয়ে আসছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এই আইনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় মুর্শিদাবাদের আঞ্চলিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে পরোক্ষভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না এবং পুলিশ কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে। এছাড়া সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধেও তিনি কড়া অবস্থানের কথা জানান। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও সংখ্যালঘু স্কলারশিপসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ইতিমধ্যে ৬০০ ভুয়া সুবিধাভোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং ভুয়া জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। কোনো বিডিও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকেও জেলে যেতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন আইপিএস কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দুর্নীতি ও গাফিলতির বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলবে। পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সমন্বয় বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর প্রশ্ন তুলেছেন, গণতন্ত্রে কথা বলার অধিকার কি নেই? তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলের নেতা ছিলেন, তখন তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তুলতেন। আজ নিজে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে চলে গেছেন কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
আপনার মতামত লিখুন :