Facebook Twitter Instagram YouTube

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ /
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালকে এদেশের ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি যারা বেঁচে নেই কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সেবায় অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশ-বিদেশের সেরা চিকিৎসকই তৈরি করেনি, এখান থেকে শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধাও তৈরি হয়েছেন যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি।

হাসপাতালকে রাজধানীর মানুষের ‘সার্বক্ষণিক নির্ভরতার জায়গা’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি করিডোরে মানুষের আনন্দ-বেদনার গল্প রচিত হয়। চিকিৎসকদের তিনি মানুষের বিপদের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে বলেন, একজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও আন্তরিক ব্যবহার রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকর। পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও মিডওয়াইফসহ অন্যান্য শূন্যপদ দ্রুত পূরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ নীতি অনুসরণ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। এছাড়া স্বাস্থ্যখাতে চলতি অর্থবছরে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১.০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভাল্ব, পেসমেকারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল থাকায়, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, মেডিকেল বর্জ্যের বিজ্ঞানসম্মত অপসারণ ও হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আজকের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে।

‘Prevention is better than cure’- এই নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো বিষয়গুলোতে আগেভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে রোগের নিরাময় অনেক সহজ হয়। নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।