Facebook Twitter Instagram YouTube

ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর: আহত ১০


প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ /
ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর: আহত ১০

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে একদল বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না পেয়ে পরীক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরীক্ষা শেষে প্রায় ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী কেন্দ্র ত্যাগ করার পর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রায় দুই শতাধিক পরীক্ষার্থী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি কলেজ প্রাঙ্গণে ডিম নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরীক্ষার্থীরা কলেজের উত্তর-পশ্চিম পাশের দুটি গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এ সময় পুরো এলাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এই হামলায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির শিকদার ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম রাসেলসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং হল পরিদর্শকদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার কারণেও পরীক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ছিল।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়া এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কিছু পরীক্ষার্থী এই হামলা চালায়। পরে পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র নিরাপদে ডাকঘরে পাঠানো হয়।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।