Facebook Twitter Instagram YouTube

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন


প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ /
বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বন্যার পানি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর ফলে বান্দরবান-চট্টগ্রাম এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে, যার ফলে জেলাটি কার্যত সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন যে, বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নাজুক।

স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে জেলার সাতটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন শেল্টার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অনেকেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি আশপাশের নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে নদীতীরবর্তী শত শত ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক জানান, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মানুষের কষ্ট বেড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া দুর্গত ব্যক্তিদের মাঝে নিয়মিত শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।