Facebook Twitter Instagram YouTube

চলতি বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বদলাচ্ছে ম্যাচের ভাগ্য


প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ / ০ Views
চলতি বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বদলাচ্ছে ম্যাচের ভাগ্য

ফুটবল ম্যাচে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানই যথেষ্ট, আর এবারের বিশ্বকাপে সেটিই বারবার প্রমাণ করছেন বদলি খেলোয়াড়রা। স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো এবারের বিশ্বকাপে বেশিরভাগ সময় ডাগআউটে কাটালেও যখনই মাঠে নেমেছেন, তখনই গোল করে দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন। শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে নেমে গোল করে তিনি পর্তুগালকে বিদায় নিশ্চিত করেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষেও বদলি নেমে একইভাবে গোল করে ব্যবধান গড়ে দেন মেরিনো। মাত্র ৯ মিনিটের কিছু বেশি সময় মাঠে থেকে দুটি নকআউট ম্যাচে জয়সূচক গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন তিনি।

মেরিনোর মতো বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুও বদলি হিসেবে নিয়মিত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ড, সেনেগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গোল পেয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে মোট চারটি গোল করে ক্যামেরুনের রজার মিলার সঙ্গে যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছেন লুকাকু। তবে বেলজিয়াম স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় তার এই সংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই।

জার্মানির দেনিস উনদাভও বদলি হিসেবে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। আইভরিকোস্টের বিপক্ষে মাঠে নেমেই দুই গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পেলেও উনদাভ এই বিশ্বকাপে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা ১৯৯০ বিশ্বকাপে রজার মিলার পর কোনো বদলি খেলোয়াড়ের সেরা অবদান।

পরিসংখ্যান বলছে, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ৯৬টি ম্যাচে মোট ২৬৬টি গোল হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি গোলই এসেছে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। এটি মোট গোলের ১৮.৬ শতাংশ। ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন বদলি নামানোর নিয়ম এবং ক্লান্ত খেলোয়াড়দের বদলে তরতাজা খেলোয়াড় নামানোর কৌশল এই পরিসংখ্যানের অন্যতম কারণ। যোগ করা সময়ে গোলের সংখ্যা বাড়ার পেছনেও বদলিদের বড় অবদান রয়েছে।

গোল করা ছাড়াও অ্যাসিস্টে পিছিয়ে নেই বদলিরা। কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হয়ে অ্যান্থনি গর্ডনের দুই অ্যাসিস্ট থেকে হ্যারি কেইন জোড়া গোল করেছেন। সেনেগালের ইলমান এনদিয়ে ইরাকের বিপক্ষে বদলি নেমে গোল, অ্যাসিস্ট এবং প্রতিপক্ষের বক্সে পাঁচটি স্পর্শ ও পাঁচটি ড্রিবল করে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তবে বদলিরা যে সব সময় সফল হয়েছেন তা নয়; মিসরের বিপক্ষে টাইব্রেকারের আগে অস্ট্রেলিয়া গোলকিপার পরিবর্তন করে ম্যাট রায়ানকে নামালেও সেই ফাটকা কাজে আসেনি এবং অস্ট্রেলিয়া হেরেছে।