Facebook Twitter Instagram YouTube

আলোচনায় না ফিরলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ /
আলোচনায় না ফিরলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানকে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তেহরান যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে দেশটির সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহটি ইরানের জন্য খুব খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শেষ পর্যন্ত দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হতে পারে।

এর আগেও চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তখন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনেও এ ধরনের স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ। ট্রাম্প জানান, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন আলোচকরা ইরানকে বার্তা দিয়েছেন যে, তারা যেন চুক্তিতে আসে, অন্যথায় কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

হরমুজ প্রণালিতে কার্গো পরিবহনের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের পূর্ব পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর পরিবর্তে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, উপসাগরীয় নেতাদের অনুরোধেই তিনি ফি আরোপের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন এবং এখন হরমুজ প্রণালি ইরান ছাড়া সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা চতুর্থ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার অভিযোগ করেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং এ পর্যন্ত সাতটি জাহাজে হামলায় প্রায় এক ডজন নাবিক হতাহত হয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, সোমবার রাতে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ওই ট্যাংকারগুলো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে মাইন পাতা পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বুধবার ভোরে কুয়েতের সেনাবাহিনী ইরানের ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে এবং বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে। ইরান এর আগে বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা এবং আমিরাতের ট্যাংকারে আঘাত হানার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy