
দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ফিরছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে নয়াদিল্লিতে বসবাসরত এই লেখিকাকে কেন্দ্র করে এই সফরে আরও বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের তথ্য অনুযায়ী, রবীন্দ্র সদনের এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মোহিত রায় জানিয়েছেন, তসলিমার এই রাজ্যে আসার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি বলেন, বিগত দুটি সরকার মৌলবাদের কাছে নতজানু হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান নতুন সরকার ও নতুন আবহে তারা তসলিমাকে কলকাতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি এতে যোগ দিতে সম্মতিও দিয়েছেন। মোহিত রায় আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এই আয়োজনে কোনো রাজনীতি নেই; বরং তসলিমার বিভিন্ন কবিতা ও গান নিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে লেখিকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক সংগঠন ‘সেক্যুলার মিশন’-এর পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান মল্লিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, সকল প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে পরাস্ত করে তিনি আসছেন। উদ্যোক্তারা তসলিমাকে ‘মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে এই সফর নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন আইএসএফ নেতা ও ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, তসলিমা নাসরিন মুসলমান-বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত, তাই বিজেপি সমর্থকদের মনে হতে পারে এটি মুসলমানদের টাইট দেওয়ার একটি কৌশল।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে কলকাতার সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎকালীন বাম সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করতে বাধ্য হয় এবং বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তসলিমাকে কলকাতা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলেও তার ওপর এই অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। দীর্ঘ সেই অধ্যায় পেরিয়ে শাসনক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার তিনি কলকাতায় ফিরছেন।
আপনার মতামত লিখুন :