Facebook Twitter Instagram YouTube

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন ২৪২ জন: নতুন গবেষণা


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৭, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ /
বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন ২৪২ জন: নতুন গবেষণা

বাতাসে ভাসমান অদৃশ্য সূক্ষ্ম ধূলিকণা এখন মানবদেহের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক রোগে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এই প্রাণহানির পাশাপাশি কর্মক্ষমতা হ্রাস ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ায় প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ‘ক্লাইমেট চেইঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট’ দীর্ঘ সময় ধরে এই স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে। সম্প্রতি ইউনিটের একটি গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিউশন (Pollution) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল—এই ছয়টি শহরের পিএম২.৫ বা সূক্ষ্ম বস্তুকণাজনিত বায়ুদূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই ছয়টি শহরেই পিএম২.৫ দূষণের কারণে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জনের অকালমৃত্যু ঘটছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জন মারা যাচ্ছেন। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বায়ুদূষণের প্রভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন। এছাড়া বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় পাঁচ শতাংশের সমান।

শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রাজধানী ঢাকায়, যেখানে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জনের অকালমৃত্যু ঘটছে। এরপরেই রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)। ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষ এই দূষণের শিকার হয়ে মারা যাচ্ছেন, যা বায়ুমানের দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

গবেষক দলের প্রধান মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও এটি মূলত একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট। তিনি বলেন, বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু ও জিডিপির পাঁচ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও প্রকট হবে।

গবেষক দলটি পিএম২.৫ নির্গমন কমাতে প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণ, শিল্প ও যানবাহনসহ দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin