Facebook Twitter Instagram YouTube

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৭, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ /
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তজনা এক নতুন ও উদ্বেগের মোড় নিয়েছে। একদিকে ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা, অন্যদিকে মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাতের ঘটনায় অঞ্চলটিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো শতাধিক বিমান হামলায় ইরানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন বাহিনী মূলত ইরানের দক্ষিণ উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালিয়েছে। অথচ এই হামলার সময় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশটির দক্ষিণ উপকূল, বিভিন্ন দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডের বান্দার আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, কেশম দ্বীপ, ইসফাহান, জাস্ক, ইরানশাহর বিমানবন্দর, মাহশাহর ও সিরিকসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মে ও জুন মাসেও যুক্তরাষ্ট্র বান্দার আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং শহীদ রাহবার নৌঘাঁটির মতো কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল বলে আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইউই ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে চালানো এসব হামলা অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার অভিযোগ, ইরানের হামলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কুয়েতের সামরিক সদস্যরাও আহত হয়েছেন। এছাড়া কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে বলে জানা গেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চাপের হাতিয়ার। তেহরানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মেহদি ইয়াজদির ভাষ্যমতে, এই প্রণালি হাতছাড়া হওয়া মানে ইরান শুধু একটি জলপথ নয়, বরং বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ হারাবে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৭ জুন সমঝোতার পর ১৮ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৬০৩টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, যা প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২৪টি। অথচ এর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, যার অর্ধেকই ছিল তেলবাহী ট্যাংকার। এছাড়া বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়েও নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, বড় সংঘাত হলে ইয়েমেনের হুথিদের সহায়তায় এই পথেও চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।

বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই তিন রুটের ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ এবং এলএনজি বাণিজ্যের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। অন্যদিকে, বাব আল-মান্দেব এবং সুয়েজ খাল দিয়ে বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১১ শতাংশ এবং এলএনজি বাণিজ্যের ৮ শতাংশ পরিচালিত হয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শুধু সামরিক সংঘাতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy