
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির মুখে থাকা এই অঞ্চলটি বর্তমানে এক চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও মানুষের জীবন বাঁচানোই বর্তমানের প্রধান অগ্রাধিকার, তবুও এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি কাঠামোগত দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। যতদিন দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকবে, ততদিন যেকোনো প্রান্তের অস্থিরতা পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি খরচ বেড়েছে, যা তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি ও পারিবারিক বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ওইসিডি সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল করছে এবং পরিবহন খাতসহ বিদ্যুৎ বিল ও ভোক্তামূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্তত ৪৬টি দেশের সরকার জনগণকে জ্বালানির বাড়তি দাম থেকে রক্ষা করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে যে, তেল, গ্যাস ও সারের উচ্চমূল্য খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।
জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলো এই অস্থিরতা ও দামের ওঠানামাকে নিজেদের মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম মাসেই বিশ্বের ১০০টি বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানি প্রতি ঘণ্টায় তিন কোটি ডলারের বেশি বাড়তি মুনাফা করেছে। এই শিল্প খাতের কৌশল হলো সংকটকে মুনাফায় রূপান্তর করা এবং একই সংকটকে ব্যবহার করে আরও ড্রিলিং, পাইপলাইন নির্মাণ ও সরকারি ভর্তুকির দাবি জানানো।
মাদস ফ্লারুপ ক্রিস্টেনসেনের মতে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের শিক্ষা হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তা খবরের শিরোনাম থেকে হারিয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই চক্র থেকে বের হতে হলে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়া এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি আন্তর্জাতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমায় এবং জ্বালানির স্বাধীনতা জোরদার করে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান নয়, বরং একটি বড় অর্থনৈতিক সুরক্ষার উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :