Facebook Twitter Instagram YouTube

ওষুধশিল্পের ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ /
ওষুধশিল্পের ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের ওষুধশিল্প বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সস্তা শ্রমের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত প্রবৃদ্ধির মডেলটি এখন তার সীমাবদ্ধতায় পৌঁছেছে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আধুনিক ওষুধে প্রবেশাধিকার আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। একই সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের মতো জনস্বাস্থ্য সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি। আইএমএফ-এর পক্ষ থেকেও কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রপ্তানির ভিত্তি প্রসারের জন্য চাপ বাড়ছে। এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শিল্প উদ্ভাবনই একমাত্র কার্যকর পথ।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত গত অর্থবছরে প্রায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কম এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সর্বনিম্ন। ওউসিডি-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশের বেশি এবং নেপালের প্রায় ১৮ শতাংশ। রাজস্ব আদায়ের এই দুর্বলতা গবেষণাগার নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে মেধাবী রসায়ন স্নাতকরা গবেষণার সুযোগ না পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, যা দেশের উচ্চ মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করছে।

বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে দুটি বড় সময়সীমা বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমত, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েশনের ফলে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সেই বিশেষ ছাড় হারাবে, যা বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেটেন্ট ছাড়াই ওষুধ তৈরির সুযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ওষুধ অন্য দেশের পেটেন্টকৃত। এই সুবিধা শেষ হলে ক্যানসার, ইনসুলিন ও বায়োলজিকসের মতো আধুনিক ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা এক বড় হুমকি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৬ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই কারণে। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ পর্যায়ে সংক্রমণের মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, কারণ চার-পঞ্চমাংশ জীবাণু এখন সর্বশেষ সারির অ্যান্টিবায়োটিককেও পরাস্ত করছে। ওষুধের নিরাপত্তাই এখন জাতীয় নিরাপত্তার সমতুল্য।

রপ্তানির নগদ প্রণোদনা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা তৈরি করে না এবং গ্র্যাজুয়েশনের পর ডব্লিউটিও-এর নিয়মের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়বে। পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের সমন্বয়ে গবেষণাগারে উদ্ভাবন প্রয়োজন। রাষ্ট্রকে এখানে প্রাথমিক ঝুঁকি নিতে হবে, কারণ জ্ঞান এমন এক সম্পদ যা ব্যবহারে ক্ষয় হয় না বরং চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পায়। গ্র্যাজুয়েশনের ঘড়ি-গণনা আসলে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণেরই সময়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo