
নেটফ্লিক্স যখন ২০২০ সালে ‘এনোলা হোমস’ মুক্তি দেয়, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি হয়তো শার্লক হোমসের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বানানো আরেকটি স্পিন-অফ সিনেমা। এটি এমন এক কিশোরীর গল্প, যার বুদ্ধিমত্তা, সাহস, রসবোধ ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব তাকে দর্শকের কাছে খুব দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। ১ জুলাই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমা ‘এনোলা হোমস ৩’। মুক্তির প্রথম পাঁচ দিনেই প্রায় দুই কোটি ভিউ নিয়ে গ্লোবাল টপ চার্টের শীর্ষে উঠে আসা সিনেমাটি দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পরও সেই অবস্থান ধরে রেখেছে। ১৫ দিনে ছবিটির ভিউ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ। বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও এটি বেশ জনপ্রিয় এবং প্ল্যাটফর্মটির শীর্ষ পাঁচের তালিকায় রয়েছে।
ফিলিপ বারান্তিনি পরিচালিত এই সিনেমায় এনোলা হোমসের (মিলি ববি ব্রাউন) জীবনের নতুন মোড় দেখা যায়। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে নিজের পরিচয় হারানোর ভয় তাকে তাড়া করে। এই ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যেই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তার ভাই শার্লক হোমস (হেনরি ক্যাভিল)। ভাইকে খুঁজে বের করতে এনোলা বেরিয়ে পড়েন এক রহস্যময় অভিযানে। তার সঙ্গী হন ড. জন ওয়াটসন (হিমেশ প্যাটেল) এবং পরে যোগ দেন মা ইউডোরিয়া হোমস (হেলেনা বোনহ্যাম কার্টার)। তদন্তের গভীরে গিয়ে এনোলা আবিষ্কার করেন যে, এটি কেবল একটি নিখোঁজের ঘটনা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরোনো শত্রুতা, রাজনৈতিক স্বার্থ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্ধকার ইতিহাস।
মিলি ববি ব্রাউন এনোলা চরিত্রে নিজের পরিণত অভিনয় আবারও প্রমাণ করেছেন। তবে আগের সিরিজের তুলনায় শার্লক হোমসের উপস্থিতি এবার বেশ কম। লুই পারট্রিজ লর্ড টুক্সব্রি চরিত্রে থাকলেও চরিত্রটির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। ড. ওয়াটসন চরিত্রে হিমেশ প্যাটেলের অভিনয় এবং ইউডোরিয়া হোমস হিসেবে হেলেনা বোনহ্যাম কার্টারের উপস্থিতি ছবিটিতে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে। খলচরিত্র মরিয়ার্টি হিসেবে শ্যারন ডানকান-ব্রুস্টারকে দেখা গেলেও চিত্রনাট্যের সীমাবদ্ধতায় চরিত্রের গভীরতা কিছুটা কম ছিল।
পরিচালক ফিলিপ বারান্তিনি মাল্টার মনোরম লোকেশন ও ভিক্টোরিয়ান যুগের সেট ডিজাইনের মাধ্যমে ছবিটিকে দৃশ্যত সমৃদ্ধ করেছেন। ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের এই সিনেমায় রহস্য নির্মাণের ক্ষেত্রে ছবিটি কিছুটা দুর্বল বলে সমালোচকদের একাংশ মনে করেন। সূক্ষ্ম সূত্রের চেয়ে অ্যাডভেঞ্চারকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় রহস্যের সমাধান প্রত্যাশিত বুদ্ধিবৃত্তিক তৃপ্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া শার্লকের মতো গোয়েন্দার সহজে অপহৃত হওয়াও চিত্রনাট্যের একটি দুর্বল দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবুও সব মিলিয়ে পারিবারিক রহস্য-অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে ছবিটি দর্শকদের কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :