
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে। টানা প্রায় দুই বছর ধরে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমিত এবং শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা দেশের বাইরে বা কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও দলটি অংশ নিতে পারেনি।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেহেতু এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে আওয়ামী লীগের অনেক সাবেক নেতা ও সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত আবেদন করেছে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিবন্ধন স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা সমর্থক যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পান। দলটি বলছে, নিবন্ধন স্থগিত থাকা অবস্থায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ বিদ্যমান আইন ও বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে তারা। জামায়াত নেতাদের মতে, সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় বর্তমানে দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় নেই। ফলে দলীয় প্রতীক নিয়ে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন পুনর্বহাল না হলে আওয়ামী লীগের দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হতে পারে এবং এই আইনি প্রশ্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন যদি জামায়াতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান আইনি অবস্থান বহাল রাখে, তবে আওয়ামী লীগের দলীয় অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে অন্য একটি অংশের মতে, দলীয়ভাবে অংশ নিতে না পারলেও আওয়ামী লীগের সমর্থিত বা সাবেক নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
এখন পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ইসি জামায়াতের আবেদন, বিদ্যমান আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধনসংক্রান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আচরণবিধিমালা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আগামী মঙ্গলবার কমিশনের সভায় এসব সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :