Facebook Twitter Instagram YouTube

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সই


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ /
সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সই

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তির ফলে উপসাগরীয় দেশটি একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। চুক্তিটিকে ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, তা পারমাণবিক বোমা তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব।

এই সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তিও সই হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই দুটি চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসহ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। সৌদি সরকারও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতারই সম্প্রসারণ। গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পরই এই চুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হচ্ছে এবং সৌদি আরবে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এছাড়া চুক্তি ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করেছে।

চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তাবলী প্রকাশ না করা হলেও, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিতে নির্মিত স্থাপনায় সৌদি আরব নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে, কারণ মার্কিন কোম্পানিগুলো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে অংশ নিতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, এই চুক্তি পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবিত সেরা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।

তবে এই চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে উদ্বেগও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের কয়েকজন পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে কয়েক দশক সময় লাগবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেন, কোনো দেশকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিস্ময়কর পদক্ষেপ, কারণ এতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। সেখানে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে বিরোধিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেট সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে একে ভণ্ডামি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক বোমা ঠেকানোর অজুহাতে যুদ্ধ শুরু করলেও, তারা সৌদি আরবের মতো একটি যুদ্ধপ্রবণ দেশকে পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সমালোচকদের উদ্বেগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি করবে না যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না থাকতে এবং কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এটি সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিধান এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে এটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তি থেকে আলাদা হবে। ওই চুক্তিতে আমিরাত নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন করে না এবং আরও নানা ধরনের বিধিনিষেধ মেনে চলে। এ কারণে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও এই চুক্তি নিয়ে উদ্বে

সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালে সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পরিকল্পনা করছে না। তবে তিনি যোগ করেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই, যদি ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তাহলে আমরাও যত দ্রুত সম্ভব একই পথ অনুসরণ করব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin