Facebook Twitter Instagram YouTube

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মো. সাহাবুদ্দিন


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ /
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তার পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পদত্যাগপত্রে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, সেই সময় সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকট নিরসনে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাচন আয়োজন ও বর্তমান সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় তিনি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন, যার ফলে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

নিজের পদত্যাগের কারণ হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় 'অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি' নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় এবং তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন। সবশেষে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকার কথা ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রীদের শপথ পড়ান তিনি। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে তাকে সরানোর দাবি উঠেছিল।

ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy