Facebook Twitter Instagram YouTube

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের দেশ: রাষ্ট্রপতি


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ /
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের দেশ: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন- “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সূরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ১০৭)। তিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ ছিলেন এবং তাঁর জীবন ও আদর্শ বিশ্ব মানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গঠনই ছিল তাঁর অন্যতম শিক্ষা। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার চরিত্রে উত্তম।” আর মহান আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর অনুপম চরিত্রের প্রশংসা করে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী (সুরা আল-আহযাব, আয়াত ২১)।” সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা ও মানবিক মমত্ববোধের সমন্বয়ে গঠিত তাঁর চরিত্র আমাদের ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। আজকের বিশ্বে হিংসা, সংঘাত ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপস্থিত সুধীমণ্ডলীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহানবী (সা.) অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা আমাদের জাতীয় জীবনেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনুসরণীয়। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন এবং ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাই হবে সমাজের ভিত্তি।

ইসলামী মূল্যবোধ বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংযোজন করেছিলেন এবং ৪টি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন এবং ২০০১ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান সরকারও ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানি ভাতা প্রদানের মতো কল্যাণকর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ২০৩০ সালের আগে সকল উপাসনালয়কে এই ভাতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়খদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সমাজের পথপ্রদর্শক। সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ দূর করতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভেদ বা প্রতিহিংসা কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বাণী হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী জী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy