Facebook Twitter Instagram YouTube

জুলাই আন্দোলনে জবির মিছিলের অপেক্ষায় থাকতাম: নাহিদ ইসলাম


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ /
জুলাই আন্দোলনে জবির মিছিলের অপেক্ষায় থাকতাম: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের অসামান্য ভূমিকার কথা স্মরণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা যখন জুলাই আন্দোলন করতাম, তখন অপেক্ষা করতাম কখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল আসবে।” মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: পুলিশ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই সভার আয়োজন করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া গর্বের। আমরা জুলাইয়ের সকল শহীদ এবং যাদের সামান্য স্যাক্রিফাইস রয়েছে, তাদের সবাইকে স্মরণ করছি।” বাংলাদেশের সব আন্দোলনের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অথচ প্রতিষ্ঠানটি কখনো তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্য পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের বড় অবদান ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় দেশ গড়ার কাজে অংশ নিয়ে ফলাফল পেলেও, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই অবমূল্যায়িত হয়েছে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও আধুনিক ও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হন। তাই এটিকে একটি উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এটি বড় অবদান রাখতে পারবে।

আলোচনা সভায় জুলাইয়ের শহীদ সাজিদের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার সাজিদের গেঞ্জি নিয়ে এখনো ঘুমাই। আমি এখনো জিন্দা লাশের মতো বেঁচে আছি। আমি শহীদের মা হিসেবে এখানে এসেছি।” জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল হক জুলাইয়ের শহীদদের অবদান ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাজিদের মতো মৃত্যু কারও ভাগ্যে যেন না জোটে। জগন্নাথ থেকে আমরা প্রমিজ করছি, আমরা কখনো সেকেন্ড হবো না, আমরা প্রথম হবো।”

জবি প্রক্টর ড. নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, “জগন্নাথবাসী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে ফিরতে দেবে না।” তবে প্রয়োজনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গোপনে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ মাহাদী আমিনের বাবা আল-আমিন তার ছেলের আহত হওয়ার ঘটনা ও পরিবারের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। সভায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার ও সভাপতি জাহিদ আহসান আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন। নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনৈতিক জুলুমের কেন্দ্র না বানিয়ে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে জবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: পুলিশ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin