
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থী নির্যাতন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আহতদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহমুদুল হাসান।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, প্রক্টর অফিস, রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং এমনকি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়েও আহত শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে। সংগঠনটি জানায়, কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোনো ছাত্রসংগঠন বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বলপ্রয়োগের সংস্কৃতিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে তারা।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি, রাকসু নির্বাচনের পর থেকেই জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের বিভিন্ন আন্দোলন, প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া, শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং লাঠি নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। অতীতে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :