Facebook Twitter Instagram YouTube

জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ /
জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি

জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী গণমাধ্যমকে জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব প্রমাণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের সম্পৃক্ত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গঠিত চার সদস্যের এই কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান।

এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ এবং জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক-ইউটিএল’ এর সদস্যরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় নীল দলের অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী মহলের ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং সরাসরি ছাত্রহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর আগে ৩০ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে সেসময়ে সংঘটিত ‘গণহত্যা’র জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করায় সাদা দলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ করে মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন নীল দলের শিক্ষকরা। সে বছর ৩ অগাস্ট নীল দলের ব্যানারে তারা একটি র‍্যালি ও মানববন্ধন করে, সেখানে ব্যানারে ‘কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সকল হত্যা, নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের দ্রুত বিচার’ দাবি করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, নীল দলের শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের দমনে সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছিলেন। তারা ১৭ জুলাই জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে হল খালি করার নির্দেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার পরিবর্তে বহিষ্কারের হুমকি প্রদানের বিষয়গুলোও উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন আসছে। ইতোমধ্যেই জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬৮ জন শিক্ষককে পাঠদান কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। আবার কোনো কোনো শিক্ষক ২০২৪ সালের ৩ অগাস্ট ‘নীল দল’ এর মিছিলে অংশগ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের ‘বয়কটের’ শিকার হয়েছেন।

এদিন সন্ধ্যা ৬টায় সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়ে রাত পৌনে ১২টায় শেষ হয়।

১ অগাস্ট নীল দলের এই শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী মহলের ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা আন্দোলন পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে সরাসরি ছাত্রহত্যার পক্ষে অবস্থান নেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh