
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাসার গেট লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির নাম রুনা টাওয়ার। ১১ তলার এই ভবনের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। ইউসুফের দুই ছেলে প্রবাসী ব্যবসায়ী। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। আজিজ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীর জানান, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল না। হঠাৎ প্যান্ট-শার্ট পরা দুই যুবক এসে তাঁকে গেটের ভেতরে রেখে বন্ধ করে দিতে বলেন। এরপর তাঁরা গেট লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যান। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদারও গুলির শব্দ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভবনমালিক ইউসুফ জানিয়েছেন, ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে একটি বিদেশি নম্বর থেকে তাঁর ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় বলা হয়, তাঁদের ছেলেমেয়েরা কোথায় কী করেন এবং কোথায় কোথায় বাড়ি আছে, তার সব তথ্যই সন্ত্রাসীদের কাছে রয়েছে। এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তাঁদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে এর আগেও চট্টগ্রামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি এবং হামলার অভিযোগ রয়েছে। ইমন বর্তমানে ১০ দিনের রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর গ্রেপ্তার হয়ে আজিজ বর্তমানে কারাগারে আছেন।.চাঁদা চেয়ে সন্ত্রাসী ইমনের হুমকির অডিও, ‘এক কোটি বলতেছি এক কোটি নিব’.আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী মো.
এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।’এর আগে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
আপনার মতামত লিখুন :