Facebook Twitter Instagram YouTube

সেনা-পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১১, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ /
সেনা-পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. নুরুল চৌধুরী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরা বিভাগের ভূইয়াবাড়ি বাঁশতলা সড়কের সানডে-সোসাইটি আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় নুরুল চৌধুরীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি ওয়াকিটকি, দুটি চার্জার, একটি ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়যুক্ত ভুয়া পরিচয়পত্র, র‍্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার উপপরিচালক পরিচয়যুক্ত ভুয়া পরিচয়পত্র, তিনটি মুঠোফোন, সেনাবাহিনীর ১০ ধরনের পোশাক, চিকিৎসা বই, বিভিন্ন ফরম ও প্যাড। এছাড়া সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তার পোশাক পরিহিত ছবি, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরমও জব্দ করা হয়।

ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নুরুল চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি কখনো 'মেজর আল মামুন', কখনো 'কর্নেল নাজিম' আবার কখনো 'মেজর তানভীর' সেজে সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। তার টার্গেট ছিল মূলত চাকরিপ্রত্যাশী বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক ও দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তিনি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফরম ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করতেন।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, নুরুল চৌধুরী কখনো এসবি-ডিবি সদস্য আবার কখনো 'পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান' পরিচয় দিয়েও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখানো, ব্ল্যাকমেইল করা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে শাহআলী থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। ডিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মুঠোফোন ও অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh