
আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সংবাদকর্মীদের জন্য নির্ধারিত আসনের ব্যবস্থা থাকবে।
ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ভোটগ্রহণের স্থান, সময়, পদ্ধতি এবং গণমাধ্যমের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন এবং কমিশনের ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যালট পেপার তাঁদের কাছে পৌঁছে দেবেন।
ভোটদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ সদস্যরা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর সামনে রাখা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে তা জমা দিতে পারবেন। নির্বাচনে মোট ৩৪৯টি ব্যালট থাকবে। বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই অধিবেশন কক্ষে ব্যালট গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সেখানেই প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ব্যালট পেপারের কাঠামো তুলে ধরে তিনি জানান, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। এর মধ্যে মুড়ি অংশে ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জায়গা থাকবে। অন্য অংশে থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম। ভোটারকে তাঁর পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য ইসির ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা থাকবে এবং নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত থেকে পুরো ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবেন।
দলের প্রার্থীর বাইরে ভোট দিলে তা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'ফ্লোর ক্রসিং' হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এটি কোনো পদ্ধতিগত বিষয় নয়, বরং একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। তাই এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেই উত্তর নেওয়া শ্রেয়।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ সময় ধরে একক প্রার্থী থাকায় দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রায় ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন :