
ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখার ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. আলী আনোয়ার বর্তমানে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। তার দুটি কিডনিই অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং তাকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলেও দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কারণে তার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
আনোয়ারের জীবনের শুরু থেকেই ছিল নানা প্রতিকূলতা। চার বছর বয়সে বাবার বাড়ি ছেড়ে নানাবাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাকে। অভাবের সংসারে মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আর স্থানীয় শিক্ষকদের সহায়তায় তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। ১৯৯০ সালে হালসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯২ সালে নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় আসেন তিনি।
ঢাকায় আসার পর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন এবং বিয়ে করেন। তবে তার সন্তানের জন্মের দেড় বছর পর জানা যায়, শিশুটি বাকপ্রতিবন্ধী। সন্তানের চিকিৎসার জন্য তিনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের চাকরি ছেড়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখায় যোগ দেন। গত দুই দশক ধরে ভারতের সিএমসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি তার জমানো সব অর্থ ব্যয় করে ফেলেছেন। বর্তমানে ২২ বছর বয়সী সন্তানটি কথা বলতে পারলেও স্বাভাবিক নয়।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আনোয়ার জানতে পারেন তার কিডনি অকার্যকর। সন্তানের চিকিৎসায় সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে তিনি দিশেহারা। আলী আনোয়ার সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তিনি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
আপনার মতামত লিখুন :