
বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে উন্নীত করার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (১২ আগস্ট) শিল্প মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সহযাত্রী হতে আগ্রহী।
বৈঠকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ, আগামী দিনের বাণিজ্য নীতি, রপ্তানি নীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ই-কমার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে বাংলাদেশ কোন কোন খাতকে প্রাধান্য দেবে, তা নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেছে। শিল্পমন্ত্রী জানান, সরকার জুট, লেদার, শিপ বিল্ডিং ও শিপ রিসাইক্লিং খাতকে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং আগামী মাসে এ সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যা শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সরকার ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং ব্যাংকিং খাতে উদারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা আইটি কোম্পানি ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডিজিটাল ও পেমেন্ট গেটওয়ে সুবিধা সহজ করবে। ট্রেড লাইসেন্স জটিলতা নিরসনে একটি কেন্দ্রীয় পোর্টাল তৈরির কাজ চলছে, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে আবেদন, ফি জমা এবং লাইসেন্স ডাউনলোড করা সম্ভব হবে।
বিনিয়োগের বাধা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মূল লক্ষ্য হলো প্রক্রিয়াগুলোকে আরও সহজ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ওভারল্যাপিং চিহ্নিত করে তা অপসারণ করা। ‘এজ অব ডুয়িং বিজনেসে’ পিছিয়ে থাকা অবস্থান থেকে উত্তরণে সরকার অনুমোদন ও সেবাকে ডিজিটাল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৩৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অ্যাডভাইজার নিশা বিসওয়াল। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসেরসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :