
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করায় এক ঠিকাদারকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিন। ভুক্তভোগী ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নগরকান্দা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার জানান, তার প্রতিষ্ঠান ‘সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজ’ ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে। আট মাস আগে কাজের বিল অনুমোদন পেলেও তা আটকে রাখা হয়। হাসিবুলের অভিযোগ, বিল ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তার কাছে ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি করেন। এ দাবির অংশ হিসেবে গত ১০ আগস্ট তিনি পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু এরপর আরও পাঁচ লাখ টাকা চেয়ে বিল আটকে রেখে তাকে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার দিন বুধবার দুপুর ১টার দিকে আটকে থাকা বিলের বিষয়ে কথা বলতে হাসিবুল প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে যান। সেখানে হুমায়ুন কবির ও মোসলেম উদ্দিন তাকে জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার হাত ভেঙে যায়। এই ঘটনার পর তিনি থানায় অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে ঘুষ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তার দাবি, কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল দেওয়া সম্ভব ছিল না এবং পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল আটকে রাখা হয়েছিল। উল্টো ঠিকাদারের বিরুদ্ধেই তিনি কার্যালয়ে এসে হামলার অভিযোগ তুলেছেন।
নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, কাজের অসংগতি থাকায় বিল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কার্যালয়ে মারধরের ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :